ঢাকা ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হামের টিকা ক্রয়ে বিলম্ব, অনিয়ম ও ব্যর্থতার কারণ জানাতে কমিশন গঠন কায়সার কামাল ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ শুরুর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাকে অভিশংসন করতে এলে ডেমোক্র্যাটরা ধ্বংস হয়ে যাবে : ট্রাম্প মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ৪,০৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে ‘রেড এন্ড অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ইরান, জানালেন বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব নয়, এবার দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি

চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে মাসুদ সিন্ডিকেটের রাজত্ব: ঘুষের বিষবৃক্ষে জিম্মি পরিবহন মালিকরা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ মার্চ, ২০২৬,  1:08 PM

news image

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-২ এর কতিপয় অসৎ কর্মকর্তারা, কর্মচারী ও দালালচক্র। উপর মহল কে ম্যানেজ করে ভেতরে-বাইরে এককাট্টা হয়ে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির সিন্ডিকেট ।  এই সিন্ডিকেটের ফলে চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে ”নো ঘুষ নো সার্ভিস” সিস্টেম বলবৎ রেখেছে দিনের পর দিন। 

এ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথোয়াইনু চৌধুরী,সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) ওমর ফারুক ও পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাসুদ আলম। একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিটসহ যেকোনো সেবা পেতে হলে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। অফিসের বাইরে প্রকাশ্যে অবস্থান করা দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কর্মকর্তারা গ্রাহকদের হয়রানি করছেন এবং ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চালক ও মালিক সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, বিআরটিএ’র প্রতিটি সেক্টর দুর্নীতির আঁতুর ঘর। এখানে প্রতিদিন মানুষ গাড়ির নিবন্ধন, মালিকানা বদলি, ফিটনেস সনদ, নতুন লাইসেন্স ও নবায়ন, ডিজিটাল নম্বর প্লেটসহ মোটরযানের নানা কাজের জন্য গিয়ে একরাশ ভোগান্তি নিয়ে ফিরছেন।

নতুন বাসের রুট পারমিট পেতে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা, নবায়নের জন্য ৩-৪ হাজার টাকা। আর ঘুষ দিতে না চাইলে মডেল আউট বলে হয়রানি করা হয়।   ড্রাম ট্রাক রেজিষ্ট্রেশনের জন্য অফিস খরচ দিতে হয় ৫০ হাজার, রেজিস্ট্রেশন শাখায় মালিকানা পরিবর্তণের জন্য গাড়ি প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। হিউম্যান হলার ৪ থেকে ৫ হাজার, ফোরস্ট্রোক থেকে ২৫০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশনে জন্য অফিস খরচ দিতে হয় ১২০০ টাকা,

নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে কমপক্ষে ৪১০০ টাকা ঘুষের বিনিময়ে চুক্তি করতে হয়। চুক্তি না হলে ফেল করানো হয়।

তবে এসব ঘুসের টাকা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের পছন্দের দালালের মাধ্যমে গ্রহণ করেন অফিসাররা। বাবু দাশ,সাগর দাশ, ইমরান, শাহ আলম, মো.সুলতান, জিসু সহ নানা বয়সী অন্তত ২০ জন দালাল বিআরটিএ কার্যালয়ে সক্রিয় রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র একাধিক কর্মকর্তার ঘুস বাণিজ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও তার তদন্ত এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বিআরটিএ’র এসব অনিয়ম নিরবে সহ্য করে যেতে হবে, কাউকে কিছু বলা যাবেনা, কোন প্রতিবাদও করা যাবেনা কেউ প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীর উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। 

জানা যায়, বিআরটিএ সরকারের একটি সেবমুলক সংস্থা। এই সংস্থা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। আর এই টাকা সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে একটা বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কিন্তু কর্মকর্তাদের ঘুস বাণিজ্য ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির কারনে অনেকেই গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিপুল পরিমান রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করতে এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে  ঘুস বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক পরিবহন শ্রমিক নেতা অভিযোগ করেন " মাসুদ আলম নতুন নয়, বিআরটিএ’র পুরনো গডফাদার। শত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির ছায়ায় তার অপকর্ম ধামাচাপা পড়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে মোঃ মাসুদ আলমের মোবাইলে একাধিকবার কল ও বার্তা দিয়েও কোন সাড়া না পাওয়া তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ শাহ মোঃ রেজাউল করিম