ঢাকা ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পাইলট-ক্রুদের তথ্য আগেই পাঠিয়েছিল আমিরাত, ছাড়পত্র দিয়েছিল ইসরায়েলও নথিবিহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারে নতুন বিধিমালায় চূড়ান্ত অনুমোদন ইইউর ‘ফাইভ স্টার’ হোটেলে বসে কর্মপরিকল্পনা করলে নারীর সমতা আসবে না আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে সবার জন্য নিরাপদ আবাসন সময়ের দাবি : প্রধানমন্ত্রী শাহজালালে পৃথক অভিযানে সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩, প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন এক ডলারে মিলছে ২৭ লাখ ইরানি রিয়াল সরকারি সেবা পেতে মানুষ‌কে যেন দরজায় দরজায় ঘুরতে না হয়

পাইলট-ক্রুদের তথ্য আগেই পাঠিয়েছিল আমিরাত, ছাড়পত্র দিয়েছিল ইসরায়েলও

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ অক্টোবর, ২০২৬,  1:22 PM

news image

সম্প্রতি ফ্লাই দুবাইয়ের সেই আলোচিত ফ্লাইটটির তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। নতুন এ তথ্য বলছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা একটি বড় সতর্কবার্তা বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ খেয়াল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফ্লাই দুবাইয়ের সেই ফ্লাইটটির ক্রু এবং পাইলটদের নাম-পরিচয় এবং আনুষাঙ্গিক তথ্য আগেই ইসরায়েলে পাঠিয়েছিলেন আমিরাতের গোয়েন্দারা এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দারা সেই তথ্য গ্রহণের পর ফ্লাইটটিকে ছাড়পত্র বা ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিয়েছিলেন। হামলা পরিচালনাকারী পাইলট হাম্মামও সেই প্রক্রিয়ায় ‘ক্লিয়ারেন্স’ পেয়েছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমিরাতভিত্তিক বিমান পরিষেবা সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছার এবং ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল হাম্মামি। দুই পাইলট ছাড়াও উড়োজাহাজটিতে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু। যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক।

বিমানটিকে তেল আবিবের কোনো বহুতল ভবনে ভবনে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল হাম্মামের। ফ্লাইট দুবাই ছেড়ে সৌদি আরবের আকাশে থাকা অবস্থায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছিলেন তিনি। তবে সহ-পাইলট স্মিত মাচ্ছার তাকে বাধা দেওয়ায় বিমানের ককপিটে হাতাহাতি শুরু হয় তাদের মধ্যে এবং এ হাতাহাতির এক পর্যায়ে ককপিটে থাকা ক্র্যাশ এক্স' (বিমান দুর্ঘটনার সময় জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত কুঠার) দিয়ে স্মিতকে আঘাত করেন হাম্মাম। তবে এর মধ্যেই তাদের হাতাহাতির খবর বিমানের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার পর যাত্রীরা এগিয়ে এসে হাম্মামকে আটক করেন এবং সৌদি আরবের তাবুক বিমান বন্দরে বিমানবন্দরটিকে অবতরণ করান।

বিমান অবতরণের পর গুরুতর আহত পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হাম্মামকে আটক করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয় সৌদি আরব। ইসরায়েরেল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বর্তমানে যৌথভাবে এ ঘটনার তদন্ত করছেন।  

ছাড়পত্র বিষয়ক তথ্য উঠে আসার পর ইসলায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্থা ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, ওই ওমানি পাইলটের অতীত বা পটভূমি প্রশ্নবিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাকে তেল আবিবগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলো? গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে ওমান ওই পাইলটকে বিমান চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল; কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পেয়ে যান।

কো-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি কীভাবে ছাড়পত্র পেলেন, বর্তমানে তা তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে; কারণ তিনি ওমানের নাগরিক এবং পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

১৮০ জনেরও বেশি যাত্রী ও কর্মী নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল। তবে ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন, যার ফলে যাত্রী ও অন্যরা হামলাকারীকে কাবু করতে পারেন। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ফ্লাইট ছাড়ার আগেই ইউএই যাত্রী ও ক্রুদের বিস্তারিত তথ্য (জাতীয়তাসহ) ইসরায়েলকে পাঠিয়েছিল করেছিল। এদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে বিমানে থাকা কোনো ব্যক্তিকেই নিয়ে তখন কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি।

কে ছাড়পত্র দিয়েছিল?

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা 'শিন বেট' দাবি করেছে যে যাত্রীদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত; অথচ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা কোনো যাত্রীর তালিকা বা সতর্কবার্তা পায়নি। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বা প্রচলিত প্রক্রিয়া, তবে আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যেসব দেশের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের পাইলটদের ইসরায়েলে বিমান নিয়ে প্রবেশ ঠেকানোর ব্যাপারে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর সাথে তাদের চুক্তি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্যে পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ফ্লাইটে ওঠার আগে ওই কো-পাইলট কীভাবে একাধিক নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পার হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি দৈনিক দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, ফ্লাই-দুবাই’র হয়ে বিমান চালানো শুরুর পর গত কয়েক মাসে ওই কো-পাইলট বেশ কয়েকবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে এসেছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন যে, জুন মাসে তিনি ইসরায়েলে এসেছিলেন এবং তখন তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও হামলার পরিকল্পনা করার ওপর।

শুরুতে তিনি জুলাই মাসে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন, কারণ বিমানটির ক্রু-সদস্যদের একজনের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল।

এদিকে, ইসরায়েলি তদন্ত কর্মকর্তারা এখনো হাম্মামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলে উল্লেখ করে টাইম অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা সৌদি ও আমিরাতি তদন্তকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট, এপি

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ শাহ মোঃ রেজাউল করিম