স্পোর্টস ডেস্ক
২৪ এপ্রিল, ২০২৬, 11:38 AM
ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তাব, যা বলছে দেশটি
টানা তৃতীয়বার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার আশা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। বিশ্বকাপ বাছায়ের পরীক্ষায় আজ্জুরিরা উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অন্যদিকে, এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্ব থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা ইরানের খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। যদিও তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে খেলার দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইরানের বিশ্বকাপ খেলার বিষয়টি যখন ধোঁয়াশায়, সেই মুহূর্তে তাদের জায়গায় ইতালিকে খেলার প্রস্তাব দিতে চাইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত পাওলো জামপোল্লি।
সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পার্টনারশিপ বিষয়ক বিশেষ দূত পাওলো জামপোল্লি দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। পরে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামপোল্লি বলেন, ‘আমার অনুরোধটি রাজনৈতিক নয়। শেষ মুহূর্তে ইরান অংশ নিতে না পারলে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।’
ট্রাম্পের এই দূত জানান, ‘এটা ছিল আমার একটি স্বপ্ন। ইতালিয়ান জনগণ এবং ইতালিয়ান-আমেরিকানদের জন্য আমি এই অনুরোধ করেছি।’ তার মতে– চারবারের বিশ্বকাপজয়ী ইতালির অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা রয়েছে। যদিও এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইতালিয়ান ফুটবল কর্মকর্তারা। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বলেন, ‘প্রথমত, এটি সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, এটি ভালো ধারণাও নয়।’
এদিকে, ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুসিয়ানো বুয়োনফিগলিও এটিকে অপমানজনক বলে মনে করেন, ‘আমি এটিকে অপমানজনক মনে করব। বিশ্বকাপে খেলতে হলে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।’ একইভাবে দেশটির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তি ইরানের পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলার এই প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এমন প্রস্তাবানার কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউসে ইরানের ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প প্রথমে হালকা রসিকতা করে বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি। এটি একটি আকর্ষণীয় প্রশ্ন।’ পরে অবশ্য তিনি বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র ওপর ছেড়ে দেন। রুবিও বলেন, ‘বিশ্বকাপে ইরানের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোনো আপত্তি নেই। তবে খেলোয়াড়রা যেন ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে সঙ্গে আনতে না পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের (ফুটবলার) আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো কথা বলা হয়নি।’
ইরানকে বাদ দেওয়ার এমন প্রস্তাবনা নিয়ে অবশ্য তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে রোমে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জামপোল্লির মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, ‘ফুটবল জনগণের, রাজনীতিবিদদের নয়। মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ইতালি তাদের সাফল্য অর্জন করেছে, রাজনৈতিক কৌশলের কারণে নয়। ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে, যারা মাঠে ১১ জন তরুণ ইরানির উপস্থিতিকেও ভয় পায়।’
যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে না যাওয়ার দাবি ছিল ইরানের, কিন্তু অন্য কোথাও তাদের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় ফিফা। এমন অনিশ্চয়তার মাঝেই এশিয়ান দেশটির বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের জন্য ফিফার বরাদ্দ আটটি দলের মধ্যে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে ইরান বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে। যদি ইরান সরে দাঁড়ায়, তাদের পরিবর্তে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংপ্রাপ্ত অনুত্তীর্ণ দল সংযুক্ত আরব আমিরাত সুযোগ পেতে পারে।