নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ অক্টোবর, ২০২৬, 12:51 AM
এনবিআরের নাজিরের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) নিম্ন বিভাগীয় সহকারী পদে যোগদানের মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে নিয়োগ বাণিজ্য, জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ফুয়াদ হাসান আকন্দ নামের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয়ে নিজ ভাইকে এনবিআরে চাকরি পাইয়ে দেওয়াসহ ঢাকা ও ময়মনসিংহে নামে-বেনামে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আলী আকবর ও রিনা আক্তার দম্পতির সন্তান ফুয়াদ হাসান আকন্দ ২০১৯ সালে এনবিআরে নিম্ন বিভাগীয় সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর অঞ্চল-১২-এর একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, যোগদানের পর থেকেই ফুয়াদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
ফুয়াদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে তাঁর আপন ভাই শামীম আশরাফকে এনবিআরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ঘটনায়। তাঁদের স্থায়ী নিবাস ময়মনসিংহের ত্রিশালে হলেও ভাই শামীম আশরাফের ঠিকানা জালিয়াতি করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী দেখানো হয়। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে তাঁকে উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ সরকারি কেন্দ্রীয় সার্ভারে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, শামীম আশরাফের ঠিকানা কখনোই ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ করা হয়নি। বর্তমানে শামীম আশরাফ সাভারের কর সার্কেল-২৬৩-এ উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগেও অন্য একটি কর অঞ্চলে জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা যাচাই-বাছাইয়ে আটকে যায়।
এ ছাড়া সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত এনবিআরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফুয়াদ অন্তত ১১ জন প্রার্থীকে অবৈধভাবে সুযোগ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য প্রতিটি প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত সাত বছরে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় রাজধানী ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও জমি কিনেছেন ফুয়াদ। পাশাপাশি অবৈধ অর্থের উৎস গোপনের লক্ষ্যে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে নিজ এলাকা ত্রিশালে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ফুয়াদ হাসান আকন্দের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে অভিযোগের বিবরণ দিয়ে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক অর্থবিত্ত ও নিয়োগ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁরা অনতিবিলম্বে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।