ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান, মাঠে চার হাজার সদস্য জিরো কমপ্লেইন থানা হবে জেলা সদর, সার্কেল অফিসার করবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি সুনামগঞ্জের এক গ্রামের ১০ যুবক নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান ইরানকে ‘সর্বোচ্চ পরাজয়ের’ সতর্কবার্তা সৌদির মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ : চার বছরের রেকর্ড ভাঙল তেলের দাম ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে দুবাইয়ে নিহত আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে 'নীরব লুটপাট' দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড ওমর ফারুক! দুদকের তদন্ত জরুরি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে গ্যাসের ৪ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, পাইপলাইনে ৪টি শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পেলেন খালেদা জিয়া, গ্রহণ করলেন জাইমা রহমান

চট্টগ্রাম বন্দরে 'নীরব লুটপাট' দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড ওমর ফারুক! দুদকের তদন্ত জরুরি

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ মার্চ, ২০২৬,  10:35 AM

news image

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলে জাতীয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে জমি ইজারা, আর্থিক রেয়াত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠেছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় নাম উঠে আসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের নাম।

বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ—তার তত্ত্বাবধানে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তে নীতিমালা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া উপেক্ষিত হয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষমতার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো—প্রথম ৭ একর জমির ক্ষেত্রে দুই বছরের পূর্ণ ভাড়া মওকুফ বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়া হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা পেয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি—মূল টেন্ডার নথিতে এমন কোনো গ্রেস পিরিয়ডের উল্লেখ ছিল না। পরে প্রশাসনিকভাবে এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে অনুমোদনের পর চুক্তির শর্ত পরিবর্তনের ঘটনা প্রশাসনিক নীতিমালা ও স্বচ্ছতার সরাসরি লঙ্ঘন।

বন্দরের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের নথি অনুযায়ী, সংলগ্ন ৩.৬ একর জমিটি কর্ণফুলী চ্যানেল ও আউটার বারের ড্রেজিংকৃত বালি-মাটি সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ড্রেজিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে, নৌপথ রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং বন্দরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে পতেঙ্গা ১১ নম্বর ঘাট থেকে ১৮ নম্বর নেভাল জেটি পর্যন্ত এলাকায় বন্দরের নিজস্ব খালি জমি প্রায় নেই বললেও জানা গেছে। তবুও কেন এই কৌশলগত জমি দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলো—তা এখন বড় প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন—নতুন টার্মিনাল স্থাপন, অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ এবং রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত না করেই সীমিত প্রশাসনিক পরিসরে সম্পন্ন করা হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় ও প্রশাসনিক তদারকিতে ছিলেন পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক। এ বিষয়ে জানতে পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুককে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সম্পর্কের মাধ্যমে ওমর ফারুক বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ও বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে নিরাপত্তা রক্ষী থেকে সহকারী সচিব, পরে পদোন্নতি নিয়ে বর্তমান পরিচালক প্রশাসক ওমর ফারুক বন্দরে হয়ে উঠেছেন দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড।

শুধু তাই নয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পরিচালক প্রশাসক ওমর ফারুক শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়। বিদেশে সন্তানদের পড়াশোনার নামে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে—তার মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন বিভাগে প্রভাবশালী ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

গত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-য় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী মহলের দাবি—চট্টগ্রাম বন্দরের এই বিতর্কিত ঘটনাগুলো এখন সেই ঘোষণার বাস্তব পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন। এখানে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য। তাদের প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যদি অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তার দায় কার? রাষ্ট্র কতটা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? এ সকল অনিয়ম দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সু-হস্তক্ষেপ জরুরি।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ শাহ মোঃ রেজাউল করিম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. বেলাল শেখ